নিউক্লিয়াস সেই ভাষা

Ashcroft Business School, Anglia Ruskin University
বিজনেস স্কুলের এই ভিড়ে একেক জনের একের পরিচয়। আমার পরিচয় আমি বাংলাদেশি। সেই পরিচয়ের ভিত্তিটা হচ্ছে বাংলা ভাষা। তাত্ত্বিক অর্থেই শুধু নয়, ঐতিহাসিক ভাবেও। কারণ ভাষা আন্দোলন না হলে এই দেশটাই হয়তো স্বাধীন হত না।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসের লেকচারে চলছিল। বলা হয় ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস, যার কোন সভেরিন থিওরি নাই, এর লিটারেচার যা আছে তার বিশাল অংশ জুড়েই আছে কালচারাল ইস্যু। পৃথিবীতে হরেক রকমের সংস্কৃতি আছে বলেই ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস নিয়ে মাথা ঘামাতে হয়। কারণ সংস্কৃতি না থাকলে পুরো মানবজাতিটা হত একক একটা ইউনিট, যেখানে চাহিদা হত জেনেরিক আর ফ্ল্যাট, তাই বিজনেসেরও লোকাল বা ইন্টারন্যাশনাল বলে কিছু থাকত না। কিন্তু সংস্কৃতি আছে।

সেই সংস্কৃতির নিউক্লিয়াসটা কি?

"...আঘাত করে একটা জাতির ভাষাকে দূর্বল করে দিতে পারলে আখেরে তাকে কীভাবে কাবু করা যায়, ম্যাঙ্গো পাবলিকের মাথায় সেসব এক লহমায় খেলবার কথা না, অন্তত আমার মাথায় এক চোটে খেলত না। পঁয়ষট্টি বছর আগে যখন সে আঘাতটা প্রথমবার করা হয়েছিল, তখন সে সময়কার ছাত্ররা ব্যাপারটা কীভাবে এক চোটে বুঝে নিয়েছিলেন আজ ভেবে অবাক হতে হয়..."
“…আঘাত করে একটা জাতির ভাষাকে দূর্বল করে দিতে পারলে আখেরে তাকে কীভাবে কাবু করা যায়, ম্যাঙ্গো পাবলিকের মাথায় সেসব এক লহমায় খেলবার কথা না, অন্তত আমার মাথায় এক চোটে খেলত না। পঁয়ষট্টি বছর আগে যখন সে আঘাতটা প্রথমবার করা হয়েছিল, তখন সে সময়কার ছাত্ররা ব্যাপারটা কীভাবে এক চোটে বুঝে নিয়েছিলেন আজ ভেবে অবাক হতে হয়…”

এ বিষয়ে যখন ক্লাসে পপকর্নের মত শব্দ ফুটছে, তখন একজন এক কথায় উত্তর দিল- ল্যাঙ্গুয়েজ। শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীত যেটাকেই আনা হোক, বেসিক সেই একটাই- ভাষা।

আঘাত করে একটা জাতির ভাষাকে দূর্বল করে দিতে পারলে আখেরে তাকে কীভাবে কাবু করা যায়, ম্যাঙ্গো পাবলিকের মাথায় সেসব এক লহমায় খেলবার কথা না, অন্তত আমার মাথায় এক চোটে খেলত না। পঁয়ষট্টি বছর আগে যখন সে আঘাতটা প্রথমবার করা হয়েছিল, তখন সে সময়কার ছাত্ররা ব্যাপারটা কীভাবে এক চোটে বুঝে নিয়েছিলেন আজ ভেবে অবাক হতে হয়। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়দের শুধু দেশপ্রেম আর আবেগই নয়, বুদ্ধি আর প্রজ্ঞার মাত্রাও যে ছিল অসাধারণ সেটা আজ এই ২০১৩-তে বসে অনুমান করা সম্ভব।

Bangladeshi boy watching Hindi Doremon
“…কিছু বাপে তাড়ানো মায়ে খেদানো ছেলেপেলে যদি সেদিন সেই আন্দোলনটা না করত, তাহলে আজ ইসি দিন পে হাম লোগ উর্দু মে বাত কর রহে হোতে। ঠিক একই ভাবে এই আজও আরও কিছু বাপে তাড়ানো মায়ে খেদানো ছেলেপেলে দরকার, পথেই হোক আর সাইবারস্পেসেই হোক। কারণ আজ যদি কেউ না জাগে, তাহলে কুছ বরষ বাদ হামারে বাচ্চে লোগ হিন্দি মে বাতেঁ করতে রাহেগা, সামঝে? …” ছবিঃ সালমান হোসেন সাইফ

সত্যিই কী হত যদি আসলেই তখন কোন মতে উর্দুটা চাপিয়ে দেওয়া যেত? এখানেও এক কথার উত্তর- এই বাংলাদেশটা আজ থাকত না।

স্কুলে থাকতেই ‘আমার বই’-তে কবিতা গল্পের মধ্য দিয়ে জেনে গিয়েছিলাম মহান মুক্তিযুদ্ধের অরিজিনটা ছিল ভাষা আন্দোলন। তখন স্রেফ মুখস্ত করার জন্য পড়তাম। মুখস্ত করা নাকি খারাপ। না, মুখস্ত করা খারাপ না। তখন সেসব ঠেলেঠুলে মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেই আজ ব্যাপারগুলো রিলেট করতে পারি।

অতএব, মহান ভাষা আন্দোলনের কেবল শহীদদের মধ্যেই আমি সীমাবদ্ধ থাকব না। আন্দোলনটায় যারা সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের মননশীলতা নিয়ে মন্তব্য করার যোগ্যতা আমাদের অনেকেরই নেই। শ্রদ্ধা জানাবারও যে সামান্য যোগ্যতাটা আছে, সেখানে থেকে তাদেরকে শ্রদ্ধা জানাই।

গত বছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে লিখেছিলাম, “কিছু বাপে তাড়ানো মায়ে খেদানো ছেলেপেলে যদি সেদিন সেই আন্দোলনটা না করত, তাহলে আজ ইসি দিন পে হাম লোগ উর্দু মে বাত কর রহে হোতে। ঠিক একই ভাবে এই আজও আরও কিছু বাপে তাড়ানো মায়ে খেদানো ছেলেপেলে দরকার, পথেই হোক আর সাইবারস্পেসেই হোক। কারণ আজ যদি কেউ না জাগে, তাহলে কুছ বরষ বাদ হামারে বাচ্চে লোগ হিন্দি মে বাতেঁ করতে রাহেগা, সামঝে?”

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s